বাংলাদেশে নতুন ভাইরাসের ঝুঁকি: শঙ্কার কারণ আছে কি?

নিউজ ডেস্ক:

২০১৯ সালের কোভিড-১৯ মহামারির পর পাঁচ বছর পেরিয়ে, আবারও নতুন ভাইরাস নিয়ে আলোচনায় চীনসহ পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ। সম্প্রতি শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে রাইনোভাইরাস এবং হিউম্যান-মেটা-নিউমো (HMP) ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরীন জানিয়েছেন, HMP ভাইরাস কোনো নতুন ভাইরাস নয়। এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়, যার লক্ষণগুলো অনেকটাই ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো। আক্রান্তদের জ্বর, সর্দি, কাশি ও ঠান্ডাজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে কোভিড-১৯ এর মতো ভয়াবহ মহামারির সম্ভাবনা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, HMP ভাইরাস আগেও বাংলাদেশে ছিল। এটি সাধারণত শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “অধিকাংশ ভাইরাসেরই সরাসরি কোনো ওষুধ নেই, তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে সেগুলোর মোকাবিলা করা সম্ভব। HMP ভাইরাসের ক্ষেত্রেও তাই করা যাবে। তবে চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সংক্রমণের ওপর নজর রাখা।” তিনি আরও যোগ করেন, “শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক পরিধান, এবং অসুস্থ অবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

২০২৩ সালে HMP ভাইরাস নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে শনাক্ত হয়েছিল। বর্তমানে চীনে এই ভাইরাস নতুন করে ছড়ালেও এটি বাংলাদেশে মহামারি আকারে ছড়ানোর শঙ্কা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা-পরবর্তী বিশ্বে যেকোনো ভাইরাস নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক সৃষ্টি না করে সচেতনতা বাড়ানো ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হবে সংক্রমণ এড়ানোর কার্যকর উপায়।