বিশেষ প্রতিবেদক, জাগ্রত পাহাড়;
বান্দরবান বনবিভাগ সাঙ্গু বনসহ বিস্তৃত বনাঞ্চলের পাহারাদার। বান্দরবানে চোখজুড়ানো বিস্তৃত অরণ্য বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার দায়িত্ব সংস্থাটির হলেও বনবিভাগের অদূরদর্শিতা এবং বননিধনে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল হারিয়ে যাচ্ছে। এতে জড়িত রয়েছে বান্দরবান বনবিভাগের কর্তারা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বান্দরবান বনবিভাগের অধীনে বহু প্রজাতির বনাঞ্চল বর্তমানে বিপন্নতার মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাচীন শতবর্ষী গাছ হারিয়ে যাওয়ার জন্য বান্দরবান বনবিভাগের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, খোদ বান্দরবান বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমানও রেঞ্জ কর্মকর্তাদের নির্দেশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করছেন।
পাহাড়ের বসবাসরত প্রবীণ অংনুমং মারমা (৬২) জাগ্রত পাহাড় ডটকমকে বলেন, বান্দরবানে সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে তবে এসব বনভূমি ধ্বংস বা উজাড় হওয়ার পেছনে বনবিভাগের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, বন বিভাগ পাহাড়ে বিভিন্ন সময় নামে-বেনামে বন সৃজনের দাবি করলেও স্বয়ং বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জড়িত হয়ে বনাঞ্চল উজাড় করছে। বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে বন থেকে আদি বৃক্ষ হারিয়ে যাচ্ছে।
তংপাও ম্রো (৫৮) জাগ্রত পাহাড় ডটকমকে জানান, বিভিন্ন সময় বন বিভাগকে পাহাড়ের হারিয়ে যাওয়া আদি গাছগুলো লাগানোর অনুরোধ করা হলেও বন বিভাগ সবসময় উল্টো পথে হেঁটেছে। তংপাও ম্রো আরও বলেন, বন বিভাগ বিনামূল্যে চারা বিতরণের সময় শুধু সেগুন গাছের চারা বিতরণ করে, সেগুন গাছ প্রকৃতির জন্য সহায়ক বৃক্ষ নয়।
বননিধনে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে বান্দরবান সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সুলতান মাহমুদ হাওলাদার বান্দরবানে যোগদানের পর থেকে বনখেকোদের সঙ্গে তার দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও বান্দরবান বনবিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সুলতান ভাইকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান স্যার সবসময় আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। এই কারণে তিনি নিজেদের মধ্যেও কাউকে পাত্তা দেন না। তিনি আরও বলেন, আবদুর রহমান স্যার সুলতানের জন্য যেকোনো সময় বিপদে পড়বেন। কারণ সুলতান ভাই কথায় কথায় ডিএফও স্যারের নাম ভাঙান।
এই ব্যাপারে জানতে পরিবেশবিদ মো. আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে জাগ্রত পাহাড় ডটকমের বিশেষ প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যদি বনবিভাগ বনাঞ্চল উজাড় করার কাজে সরাসরি জড়িত থাকে, তাদের নামে পাহাড়ের বসবাসরত যেকোনো সচেতন ব্যক্তি বা সচেতন সামাজিক সংগঠন মামলা করতে পারে। রাষ্ট্রের আইন তো বলেনি বনবিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না।
এই বিষয়ে জানতে বান্দরবান বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব-(২)
আবদুর রহমানের আশ্রয় প্রশ্রয়ে বেপরোয়া সুলতান! আবদুর রহমানের খুটির জোর কোথায়?
পর্ব – (৩) এ বিস্তারিত আসছে…..