পানছড়িতে প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ইসকন প্রচার কেন্দ্র পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ, বিজিবির হস্তক্ষেপে কাজ স্থগিত

জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক :

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই পরিত্যক্ত ইসকন প্রচার কেন্দ্র ও কীর্তন মন্দির পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিজিবি নির্মাণকাজ স্থগিত করেছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে ৩ বিজিবি’র পানছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে অবস্থিত আদি ত্রিপুরা পাড়ায় ইসকন কমিটির সভাপতি সুকান্ত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য নির্মাণকাজ শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তারা দ্রুত পানছড়ি ব্যাটালিয়নের নিকট অভিযোগ জানান।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ও জমির বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের অনুরোধ করে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজটি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানছড়ি উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মোট জনসংখ্যা ১৪,৭৪০ জন এবং সেখানে ১০টি মন্দির রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজিবি ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও ইসকন প্রচার কেন্দ্রের পুনঃনির্মাণ সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্বধারণা ছিল না বলে স্থানীয় হিন্দু নেতৃবৃন্দ জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, পানছড়ি উপজেলায় ইসকনের কোনো স্বতন্ত্র প্রচার কমিটি নেই। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের একটি ছোট অংশ ইসকনের অনুসারী, এবং ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে ইসকনের সম্প্রসারণ ও গোপনীয় কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, পানছড়ি এলাকায় পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) ও ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালানের তথ্যও রয়েছে। এমন বাস্তবতায়, এলাকার পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখতে পরিত্যক্ত মন্দিরের নতুন নির্মাণ উদ্যোগ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই তারা বিজিবির সহায়তা কামনা করেছেন।