লন্ডন বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ট্র্যাপে পা দিল : মঞ্জুরুল আলম পান্না

নিউজ ডেস্ক:

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেছেন, ‘লন্ডন বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ট্র্যাপে পা দিল, সে কথা আমি যেমন স্পষ্ট করে একাধিকবার বলেছি, আরো অনেকেই বলেছেন। সেই বিষয়টি সম্ভবত বিএনপির অনুধাবনে আসতে শুরু করেছে। বিএনপি নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেবে না এবং নির্বাচনের আগে নানা ধরনের টালবাহানা করা হতে পারে।’

রবিবার (২৯ জুন) মঞ্জুরুল আলম পান্না ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্রে’ দেওয়া এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন।

তিনি ওই ভিডিওতে বলেন, ‘দুই দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাক্ষাৎ করলেন, রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন। ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইং কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কেউই কোনো ধরনের শব্দ উচ্চারণ করেননি। কোনো কথা মানেুষের সামনে বলেননি। সেখানেই আসলে সন্দেহ; বৈঠকে কী হয়েছে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে তো এই দাবি জানানো হয়েছে যে দুজনের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হলো তা যেন পাবলিক করা হয়।কিন্তু সেই সম্বন্ধে এখনো পর্যন্ত কিছু বলা হয়নি। সেই জায়গা থেকে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয়ে দুই পক্ষ যে মোটামুটি একটি ঐকমত্য পৌঁছেছিল। সেটি আসলে সরকার দেবে না।’

মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য নানা ধরনের এজেন্ডা সামনে নিয়ে আসা হতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে এবং সরকারের অনুগত যে পক্ষগুলো রয়েছে তাদের যোগসাজশে।এই কথাগুলোই তো বারবার বলার চেষ্টা করছিলাম। যেমন কী কী বিষয় সামনে এনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটি করা হতে পারে। একটি হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি তোলা বেশ জোরেশোরে। সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে এবং বিশেষ করে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী তাদের যে দাবি সেটা জোরালো সহকারে উঠানো হতে পারে। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন এই বিষয়টি বিএনপি মানছে না।এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামপন্থী বেশ কয়েকটি দল সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। সেই দাবিটির সামনে আনা হতে পারে।’

এই সাংবাদিক বলেন, ‘বর্তমানে ইসির বাতিলের একটি দাবি এনসিপি পর্যায় থেকে রয়েছে। যদিও সব কিছু নাটকের অংশ। ইসি মানে সিইসির পদত্যাগ চাই বা বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের অপসারণ করতে হবে। এই দাবি এনসিপি জানিয়ে আসছে, আবার এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে এনসিপি তাদের নিবন্ধন করে যাচ্ছে। এত দুর্বল স্ক্রিপ্টের নাটক আমাদের সামনে মঞ্চস্থ হচ্ছে। তার পরেও আমাদের কিছু করার নেই। আর বিএনপি বুঝেও না বোঝার ভাব করছে রহস্যটা সেখানেই।’

তিনি ভিডিওতে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আর কী কী সামনে আনা হতে পারে। রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবি ছিল, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। তাদের পক্ষ থেকে  জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে সামনে আনা হতে পারে। রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত করার একটা চিন্তা-ভাবনা অবশ্যই তাদের মধ্যে রয়েছে। এরপরে আরো একটি বিষয়, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সবাই মোটামুটি একমত। চট্টগ্রাম বন্দর, করিডর ইস্যু এগুলো তো এখনো চলমান রয়েছে। সরকার সেখান থেকে সরে আসেনি। সেই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসে রাজনৈতিক দলগুলো; বিশেষ করে বাম সংগঠনগুলো তারা লং মার্চ করেছে। নিশ্চয় তারা এই বিষয়টিতে আপত্তি জানাবে। রাজনৈতিক ময়দানে নেমে এসে পরিস্থিতি চরমভাবে ঘোলাটে হতে পারে, তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি করা হতে পারে। যেখানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিবেশ থাকবে না। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা এখন বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ করছেন। আমাদের কষ্ট হয়, আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা এই কথাগুলো কয়েক মাস ধরে অনবরত বলে আসছে। কিন্তু বিএনপি বুঝতে চাইছে না অথবা বুঝেও কোনো এক রহস্যের কারণে তারা সরকারের সাথে আপস করতে বাধ্য হচ্ছে।’