বান্দরবানে বন নিধনে জড়িত বন বিভাগ; শুকিয়ে গেছে ঝিরি-ঝর্ণা!

বিশেষ প্রতিবেদক: জাগ্রত পাহাড়;

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার স্বার্থে সীমিত অনুমতি ছাড়া সব ধরনের গাছ কাটা ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবুও বান্দরবানে বনখেকোরা স্থানীয় বন বিভাগকে মোটা অংকের চাঁদা দিয়ে নিয়মিত বননিধন করছে। নির্বিচারে বননিধনের ফলে শুষ্ক মৌসুম এলে ঝিরি-ঝর্ণা শুকিয়ে যাচ্ছে, এতে পানির জন্য ভুগছে পাহাড়বাসী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জোট অনুমতি ছাড়া সেগুন, গামার, গোদা, গুদগুটি, কড়ই, চাপালিশসহ বিলুপ্তপ্রায় পাহাড়ি বনের গাছ কেটে পাহাড়গুলো শূন্য করার মিশনে নেমেছে বনখেকোরা। বন বিভাগের ছত্রছায়ায় বনখেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা এইসব কাজ করছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, ঠিক তেমনি দিনদিন পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিরাতে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে অনুমতিবিহীন বোঝাই শতাধিক গাড়ি চলাচল করছে।

এই ব্যাপারে পরিবেশবিদ মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, পাহাড়ের এসব কাঠ পাচার রোধে বন বিভাগকে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগের ভূমিকা শতভাগ হওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের সদস্য ও বন বিভাগের যে কর্মকর্তারা জড়িত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মিলে বন আইনে মামলা করা যেতে পারে। দুর্নীতিবাজরা এখনও সক্রিয় রয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাদের নাম তালিকা করে সংস্কার কমিটিকে দেওয়া উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোট পারমিটের এক ব্যবসায়ী বলেন, অবৈধ কাঠ পাচারে বন বিভাগ সরাসরি জড়িত রয়েছে। সবার সম্পৃক্ততায় অবৈধভাবে কাঠ পাচার হয়। এভাবেই কাঠ পাচার হতে থাকলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে।

কাঠ পাচার ও জড়িত থাকার ব্যাপারে বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এছাড়াও বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও কোনো সাড়া দেননি।

ধারাবাহিক প্রতিবেদন: পর্ব – ১