নতুন খাদ্যবান্ধব নীতিমালায় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্য মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যেখানে দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই নীতিমালায় উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটি থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন সরকার চাইলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।”

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তালিকায় গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ, ভূমিহীন, দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বয়স্ক নারী এবং শিশু ও প্রতিবন্ধীসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।

জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে তালিকা তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে প্রকাশ করা হবে।

নতুন নীতিমালায় ডিলার নিয়োগে জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে এবং মেয়াদ ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫০ লাখ সুবিধাভোগী রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় পরিবারপ্রতি বছরে ৫ মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকায় সরবরাহ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর্মসূচির জন্য ৩,২৫৮ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের সময়ে অনেক অনুপযুক্ত ব্যক্তি সুবিধা পেয়েছেন। নতুন তালিকায় কেবল উপযুক্ত ব্যক্তিরাই অন্তর্ভুক্ত হবেন।”

সরকারি সূত্র জানায়, সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বর্তমানে কোনো নতুন সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনা নেই।

২০০৬ সালে জাতীয় খাদ্য নীতি প্রণয়ন করা হয়। পরে ২০১৬ সালে ‘নো প্রভার্টি’ ও ‘জিরো হাঙ্গার’ লক্ষ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হয়। ২০১৭ সালে প্রথম নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।