বান্দরবান প্রতিনিধি ;
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের লামা শাখার মাঠ-সহকারীদের বিরুদ্ধে ঋণের টাকা আত্মসাৎ ও ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৩৯টি সমিতির প্রায় ১১ হাজার সদস্যের মধ্যে বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, মাঠ-সহকারীরা তাদের পাস বই নিজের কাছে রেখে দেন এবং সাদা কাগজে হিসাব লিখে দেন, যা হারিয়ে গেলে ঋণ বা সঞ্চয়ের কোনো প্রমাণ থাকে না।
রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রাজা পাড়া গ্রামের সদস্য আয়ুব আলি জানান, তিনি ও তার স্ত্রী খতিজা বেগম পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছিলেন। তবে তাদের কোনো পাস বই দেওয়া হয়নি, বরং মাঠ-সহকারী রেজাউল করিম সাদা কাগজে লিখে হিসাব দিতেন। সর্বশেষ ৪ হাজার টাকা পরিশোধের পর ঋণ পরিশোধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও মাঠ-সহকারী আরও ১৪০০ টাকা দাবি করেন। আয়ুব আলি এই বাড়তি টাকার হিসাব চাইলে রেজাউল করিম তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং দুই বছরেও কোনো সমাধান দেননি।
শুধু আয়ুব আলি নন, আরও অনেক সদস্য অভিযোগ করেছেন, মাঠ-সহকারীরা নিয়মিত সদস্যদের ঋণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি করেন, কিন্তু নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের সহজে ঋণ দিয়ে দেন। জোবেদা খাতুন, ছফুরা বেগম, আয়েশা বেগম, হেনা আক্তার ও রহিমা বেগম জানান, তারা মাসের পর মাস ঋণের জন্য অপেক্ষা করেছেন, অথচ মাঠ-সহকারী রেজাউল করিমের স্ত্রী, মা, বোন, চাচা, চাচিসহ তার আত্মীয়রা সহজেই ঋণ পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শাখা ব্যবস্থাপককে অভিযোগ জানালে তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিয়ে সমিতি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে মাঠ-সহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাঠ-সহকারী রেজাউল করিম স্বীকার করেছেন, তিনি তার এলাকার আত্মীয়দের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পাস বই সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, “অডিটের প্রয়োজনে পাস বই অফিসে রাখতে হয়।”
লামা উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক মো. মহি উদ্দিন বলেন, “কোনো গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বান্দরবান জেলা আঞ্চলিক কর্মকর্তা প্রিয়াংকা মিত্র বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তবে প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”