বান্দরবানে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

নিউজ ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বান্দরবান-৩০০ আসনে ৫টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার শামীম আরা রিনির নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়নপত্রগুলো হস্তান্তর করা হয়।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির (কাদের) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ এবং এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ শাহা সুজাউদ্দিন।

পার্বত্য এই জেলায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৮৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯ জন। সাতটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে মোট ১৮৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বান্দরবানকে একটি সমৃদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও জানান, পাহাড়ের সকল জাতিসত্তা এবার ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সাড়া দিচ্ছে। তিনি প্রশাসনের নিকট ১৮৬টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে কেউ অবৈধ অস্ত্র বা পেশিশক্তি প্রদর্শন করতে না পারে। তিনি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভূমির অধিকারসহ টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানুষ এখন দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা এবং পরিবর্তন চায়। তবে দুর্গম এলাকার প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নিরাপত্তার বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এবার প্রতিটি কেন্দ্রকে ওয়াকিটকি ও স্টারলিংক সংযোগের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের আওতায় রাখা হচ্ছে। সকল বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে তিনি আশ্বাস দেন।