নিউজ ডেস্ক:
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পার হলেও বিচারকাজ এখনো ঝুলে আছে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন তারা। তদন্তভার একাধিক সংস্থার হাতে গেলেও মামলার অগ্রগতি হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পিছিয়েছে ১১৪ বার, যা নজিরবিহীন।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পরিকল্পিতভাবে আলামত নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি দাবি করেন, খুনিদের বাঁচাতে তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়েছিল।
গত আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি টাস্কফোর্স গঠন করে, যা তদন্তের দায়িত্ব নেয় ৪ নভেম্বর। এরপর থেকে ৬২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে মামলায় গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে দুজন জামিনে থাকলেও টাস্কফোর্স আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, নিহত দম্পতির ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘ বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করলেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে হতাশাও ব্যক্ত করেছেন। মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মামলার অগ্রগতি আটকে রেখেছিল, কিন্তু নতুন সরকার সঠিকভাবে তদন্ত চালাবে বলে তিনি আশাবাদী।
সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মনির বলেন, “আর কত অপেক্ষা করব? এই সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অপরাধীদের খুঁজে বের করা সম্ভব।” দ্রুত বিচার চান নিহতদের স্বজনরা।