যশোরে সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে আ.লীগের ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে যুবলীগের ব্যানারে রাতের আঁধারে সরকারবিরোধী মিছিল করার অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পাঁচজন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি), মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮০ থেকে ১০০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ এবং যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী।
এছাড়াও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপুসহ আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশের আজিজ সিটি রোডে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। এ সময় তারা মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জনের অংশগ্রহণে মিছিল করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। মামলায় প্রথম ১৩ জনকে নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থ যোগানদাতা ও নেতৃত্বদানকারী হিসেবে এবং বাকি ২৭ জনকে সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এদিকে, মামলার আগে আওয়ামী লীগের একটি ফেসবুক পেজে যশোরে যুবলীগের কর্মসূচি পালনের দাবি করে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে শহরের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও স্লোগানের দৃশ্য দেখা যায়।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— সৈয়দ তৌফিক জাহান, শফিকুল ইসলাম সুজন, বাবলু শেখ, সোহান হোসেন, আনোয়ার হোসেন বাবু, মনিরুল ইসলাম, সুমন, ইমন এবং শাহাজাহান।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, এ ঘটনায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮০ থেকে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *