ভারতের কারাগারে ১০৬৭ বাংলাদেশি বন্দি, গুম তদন্তে চলছে অনুসন্ধান

নিউজ ডেস্ক :

গত আড়াই বছরে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে ১ হাজার ৬৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মইনুল ইসলাম চৌধুরী। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) কমিশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

কমিশনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আটক বাংলাদেশিদের তালিকা চাওয়া হলে তাদের নাম-ঠিকানাসহ একটি তালিকা পাওয়া গেছে। তবে এই তালিকায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের কেউ রয়েছেন কি না, তা নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কমিশনে জমা পড়া ১ হাজার ৭৫২টি অভিযোগের মধ্যে প্রায় ১ হাজারটির প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৮০ জন অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বিজিবির সেক্টর কমান্ডারদের কাছে ভারত থেকে পুশইন করা ব্যক্তিদের তথ্য চাওয়া হলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪০ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই তালিকায় এখন পর্যন্ত গুমের শিকার কারও নাম পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে বলে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

অনুষ্ঠানে গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিচারক মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকার কর্মী নুর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজ নাবিলা ইদ্রিস এবং মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।