তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন সংশোধন

নিউজ ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি ও আলামত জব্দের ক্ষমতা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংসদ চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই অধ্যাদেশ জারি করেন, যার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ।

‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর আওতায় ৪, ৮, ৯, ১১, ১২ ও ১৯ নম্বর ধারা সংশোধন করা হয়েছে। আগে তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে তল্লাশি চালাতে পারতেন, কিন্তু নতুন বিধানে এই শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিচার শুরুর ছয় সপ্তাহ আগে সাক্ষীর তালিকা জমা দেওয়ার নিয়ম শিথিল করে সময়সীমা তিন সপ্তাহ করা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে ট্রাইব্যুনালকে আসামির সম্পদ অবরুদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সম্পদ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মামলার নথির গোপনীয়তা রক্ষার বিধান আগের মতো থাকলেও অভিযোগপত্রকেও নতুন করে গোপনীয়তার আওতায় আনা হয়েছে।

এছাড়া, সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালকে কারিগরি বিধির বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও সহজ পদ্ধতিতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই সংশোধনী আনা হলো।