চট্টগ্রাম কারাগারে নিয়ম ভেঙে নিজের খামারের দুধ বিক্রি করছেন ডিআইজি প্রিজন

চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি কারাবিধি লঙ্ঘন করে তার ব্যক্তিগত খামারের দুধ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সরবরাহ করছেন এবং তা বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। প্রায় ১০ মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০ লিটার দুধ কারা ক্যানটিনে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারাবিধি অনুযায়ী, কোনো কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্দিদের কাছে কোনো দ্রব্য বিক্রি করতে পারেন না। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রতিদিন সকাল ১০টার পর ভ্যানে করে ড্রামভর্তি দুধ কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এটি ডিআইজি প্রিজনের কার্যালয় থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। কারাসূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কারাগারে বন্দি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী, এম এ লতিফ, ফজলে করিম ও সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যাদের জন্য এই দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে খুচরামূল্য ৮০ টাকা লিটার হলেও ডিআইজি প্রিজনের খামারের দুধ কারাগারে ১০০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। কারা ক্যানটিনের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে এই দুধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারা অধিদপ্তরের সাবেক উপমহাপরিদর্শক শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, “এটি গুরুতর অনিয়ম এবং এখনই বন্ধ করা উচিত, না হলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “দুধ ভালো জিনিস, তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

সূত্র: কালবেলা