শীতকালকে ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী ইবাদত ও নেক আমলের এক বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল” (মুসনাদে আহমদ)। বায়হাকিসহ বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, “শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল; কারণ শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত জেগে নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় সহজেই রোজা রাখতে পারে।” অর্থাৎ শীতের এই সময়টি মুমিনের জন্য সহজেই ফজিলতপূর্ণ ইবাদত করার অনন্য সুযোগ এনে দেয়।
আমের ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিজি (সা.) বলেছেন, “শীতল গনিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা” (সুনানে তিরমিজি)। সাহাবিদের মধ্যেও এ বিষয়ে অনুপ্রেরণামূলক বাণী পাওয়া যায়। ওমর (রা.) বলেছেন, “শীত ইবাদতকারীদের গনিমতস্বরূপ” (হিলয়াতুল আউলিয়া)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) শীত আসলে বলতেন, “স্বাগতম শীতকাল! শীতকালে বরকত অবতীর্ণ হয়। নামাজের জন্য শীতের রাতগুলো দীর্ঘ হয়, রোজার জন্য দিনগুলো সংক্ষিপ্ত হয়।”
এই শিক্ষাগুলো আমাদের জন্যও দিকনির্দেশক। শীতকালের দীর্ঘ রাতকে কাজে লাগিয়ে তাহাজ্জুদ আদায় করা, সংক্ষিপ্ত দিনে রোজা রাখা, এবং অন্যান্য নেক আমলে সময় ব্যয় করা আমাদের উচিত। এইভাবে শীতকাল মুমিনের জন্য সত্যিকার অর্থেই ইবাদতের বসন্তকাল হয়ে উঠতে পারে।
শুধু ইবাদত নয়, শীতার্তদের সাহায্য করাও বিশেষ সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলিম তার বিবস্ত্র ভাইকে কাপড় পরিধান করালে, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন। ক্ষুধার্ত ভাইকে খাবার খাওয়ালে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। তৃষ্ণার্ত ভাইকে পানি পান করালে তাকে জান্নাতের সুধা পান করাবেন” (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি)।
তাই, শীতকালে নিজের ইবাদতের পাশাপাশি শীতার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিত। শীতবস্ত্র বিতরণ ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে তাদের কষ্ট লাঘব করার মধ্য দিয়ে আমরা বিপুল সওয়াব অর্জন করতে পারি।