নিউজ ডেস্ক :
চট্টগ্রামে লোহাগাড়া থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বিক্রির অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল মো. রিয়াদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার নগরীর পতেঙ্গা থানার কাঠগড় ও বাকলিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে, যা লুট হওয়া অস্ত্রের অংশ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কনস্টেবল মো. রিয়াদ, তার সহযোগী আবদুল গণি, আবু বক্কর, ফরহাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. ইসহাক। কনস্টেবল রিয়াদ চাঁদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন নগরীর বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৮১৩টি অস্ত্র ও ৪৪ হাজার ৩২৪টি গুলি লুট হয়। কনস্টেবল রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। লুট হওয়া অস্ত্রের কিছু অংশ তিনি চট্টগ্রামে বিক্রি করেন।
গত ৩ মার্চ সাতকানিয়ায় জামায়াত কর্মী নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেক হত্যার ঘটনায় নেজামের মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি রিয়াদ ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশ তাকে চাঁদপুর থেকে আটক করে চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি লুট হওয়া অস্ত্র বিক্রির কথা স্বীকার করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন জানান, আসামিদের মধ্যে কনস্টেবল রিয়াদ, আবু বক্কর ও মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুইজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।