নিউজ ডেস্ক:
মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতির কারণে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খালের দখল নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বুধবার (৮ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্লোরিডার মার আ লাগোয় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খালের মতো অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজনে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারেও আমি দ্বিধা করব না।
তার বক্তব্যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিরক্ষা চাঁদা বাড়ানোর দাবি এবং মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার ঘোষণাও দেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ডেনমার্ক ও পানামা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেদেরিকসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না। অন্যদিকে, পানামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাভিয়ের মার্তিনেজ-আচা বলেছেন, পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র পানামার জনগণের হাতে থাকবে।
এদিকে, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি ও মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্দ ট্রাম্পের মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তাদের দেশ কোনো ধরনের হুমকিতে পিছু হটবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন মিত্রদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তার এসব মন্তব্য নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া বক্তব্যেরই প্রতিফলন। তবে এগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।