স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার শোরুমে জুয়ার আসর, বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ গ্রেপ্তার ৯

নিউজ ডেস্ক:

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার শোরুমে জুয়ার আসর, বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ গ্রেপ্তার ৯
বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ গ্রেপ্তার ৯, ছবি: চ্যানেল 24

পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাভেলের শোরুমে জুয়ার আসর থেকে বিএনপি সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল বাজারে অবস্থিত আরএফএলের শোরুম থেকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের চোমরপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রউফ (৪৫), শ্রীকোল গ্রামের খাজা হোসেন (৪০), লোহাগড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৯), সাবেক চেয়ারম্যান মো. জনি (৪০), লালন হোসেন (৩৮), হাশেম আলী (৪০), জলিল মুন্সী (৪২), আমিরুল ইসলাম (৪০), এবং আব্দুল মজিদ (৪২)।

‎এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রউফ পাবনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান মিন্টুর সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি করতেন। এরপর মিন্টু আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে তিনি এলাকায় এসে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর দোয়া চেয়ে বিভিন্ন পোগ্রাম ও বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন।

‎খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল বাজারের পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাভেলের আরএফএলের শোরুমে বিএনপি সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রউফসহ বেশ কয়েকজন আ.লীগ ও বিএনপি সমর্থিত লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসিয়ে আসছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আতাইকুলা থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেকে আটক করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েও যায়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি স্পটে সারারাত ধরে জুয়ার আসর বসানো হয়ে থাকে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে, টাকার বিনিময়ে ওই অফিস জুয়ারুদের কাছে ভাড়া দিয়ে থাকেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে জুয়া খেলা। এতে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষজন। এলাকায় গরু চুরি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে একটি চক্র। কয়েকটি স্পটে সারারাত ধরে কয়েকমাস ধরে জুয়া খেলা হলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে না।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল আওয়াল জানান, আটক ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, জুয়ার কারণে সাধারণ মানুষ অশান্তিতে ভোগছে এবং কিছু চক্র এলাকায় গরু চুরি, চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্মে লিপ্ত।