নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান |
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আলীকদমের পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ায় নবনির্মিত এই বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় উন্নয়ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক অর্থায়নে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়েছে। সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং মিয়ানমার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত পাহাড়ভাঙ্গা পাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে শিক্ষাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। ফাতরাপাড়া, মাসখুম পাড়া ও তরণী পাড়ার শিশুরা ন্যূনতম শিক্ষা সুবিধা না পাওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডার শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, বেঞ্চ, পাঠ্যবই ও বিভিন্ন স্টেশনারি সামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি শীতার্তদের সহায়তায় ১১৩টি পরিবারের মাঝে কম্বল এবং বিশেষ আর্থিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
এছাড়া বিদ্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করে। ক্যাম্পে ৯৫ জন পুরুষ, ১৭৫ জন মহিলা এবং ৪৫ জন শিশুসহ মোট ৩১৫ জনকে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা সবসময় জনগণের পাশে থাকব।”
সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক ও সমন্বিত উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।