পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতির পক্ষে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের অবস্থান

স্টাফ রিপোর্টার:
পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রেক্ষিতে শান্তি, ঐক্য ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। শনিবার (১ নভেম্বর ২০২৫) এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান প্রদত্ত সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।”

বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস ও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা বেড়েছে, যারা উন্নয়ন নয় বরং সংঘাত সৃষ্টিতে তৎপর। তাদের উদ্দেশ্য পাহাড়ের নিরীহ জনগণকে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তির মধ্যে রাখা। সংগঠনটি জানায়, বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি অপরিহার্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, কিন্তু কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ধর্মীয় স্থাপনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে, যা পাহাড়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিপন্থী।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোট বিশ্বাস করে, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন কেবলমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব। তারা উল্লেখ করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এখানে সংবিধান ও জাতীয় আইনই সর্বোচ্চ। কেউ যদি রাষ্ট্রবিরোধী বা বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তা দেশপ্রেমবিরোধী বলে বিবেচিত হবে।

বিবৃতিতে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, তারা পাহাড়ে জনগণের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান খাতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমই স্থায়ী শান্তির মূল ভিত্তি।

সংগঠনটি পার্বত্য এলাকার সব জনগোষ্ঠী—বাঙালি ও অ-বাঙালি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছে ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সংবিধানসম্মত শান্তির পথে একত্রে কাজ করার জন্য। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা পরিহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে “শিক্ষা, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির পাহাড়” হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষে ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন,
“আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শান্তি ও সম্প্রীতি তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন সবাই ‘এক বাংলাদেশ, এক পতাকা, এক ভবিষ্যৎ’-এর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।”