বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী যুক্তরাজ্য, শুল্ক সুবিধা থাকবে ২০২৯ পর্যন্ত

নিউজ ডেস্ক :

অতীত নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় যুক্তরাজ্য। ঢাকায় সাম্প্রতিক সফরে এমন অভিমত জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত ডেম রোজি উইন্টারটন।

যমুনা টেলিভিশনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের পোশাক খাত ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বিমান চলাচল, প্রতিরক্ষা ও শিক্ষা খাতেও যৌথভাবে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।”

ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে উইন্টারটন বলেন, “ইউকে এক্সপোর্ট ফান্ডের এই অর্থ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হতে পারে, তবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো জরুরি।”

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে গেলেও যুক্তরাজ্য কম শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। এই ঘোষণা ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নিয়ে ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাজ্যের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর যমুনা টেলিভিশনের স্টুডিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান এবং অতীতে শিক্ষার্থীদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা সবসময় স্থিতিশীলতা চান। অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া কিছু আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগে সহায়ক হবে।”

যুক্তরাজ্যের এই প্রতিনিধির মতে, সময় এসেছে অতীতের সাফল্যের বাইরে গিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দিকেও মনোযোগী হওয়ার। বাংলাদেশে তার দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়তে চায় ব্রিটিশ সরকার।