বঙ্গোপসাগর সম্মেলন ২০২৪:
শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৪’-এর তৃতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য সবার ধৈর্য ও সহযোগিতার প্রয়োজন।
ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, তরুণদের কণ্ঠে সমাজ গঠনের নতুন ধ্বনি উঠেছে। তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার। আমাদের তরুণরা একটি ন্যায্য ও টেকসই সমাজ গঠনের প্রত্যাশা করছে।”
সভ্যতার ব্যর্থতার সমালোচনা করে তিনি নতুন সভ্যতা গঠনের আহ্বান জানান থ্রি জিরো ভিত্তিতে। তিনি বলেন, “এই সভ্যতা আমাদের পরিবেশ ও নৈতিকতার ক্ষতি করেছে। আমাদের প্রয়োজন এমন একটি সভ্যতা, যেখানে সম্পদের সমবণ্টন হবে এবং মুনাফার পেছনে মরিয়া না হয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. ইউনূস বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশ তরুণদের দেশ। ১৭১ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বয়স ২৭ বছরের কম। তাদের সৃজনশীলতা ও শক্তি আমাদের টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন সহযোগিতা, সাহস এবং একতার মনোভাব।”
তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের অঞ্চলের জন্য একটি বড় হুমকি। আমাদের উপকূলীয় সম্প্রদায় প্রতিনিয়ত জলবায়ুর অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এ ফ্র্যাকচারড ওয়ার্ল্ড’। সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ৮০টিরও বেশি দেশের ২০০ জন আলোচক, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং ৮০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী।
ড. ইউনূস এ সম্মেলনের আয়োজক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই আয়োজন স্বপ্ন এবং বাস্তবতার সংযোগ তৈরি করবে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।”