ইলিয়াছ সানি
দেশ নতুন করে স্বাধীন করায় ও নবগঠিত নতুন অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ আগষ্ট) বিকেল বান্দরবানের হিলবাট চত্বর থেকে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি ট্রাফিক মোড়, বাজার হয়ে সড়ক বিভিন্ন প্রদক্ষিণ শেষে ট্রাফিক মোড়ের শহীদ আবু সাঈদ মুক্ত মঞ্চ সামনে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়। আনন্দ মিছিল ও পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মো: মজিবর রহমান।

পথসভায় কাজী মো: মজিবর রহমান বলেন, দেশে নতুন সূর্য উঠেছে। সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিহত ছাত্র-জনতার শহীদদের রক্ত ও আন্দোলনের ফসল নবগঠিত অন্তর্বতীকালীন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে জানাই পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শহীদ আবু সাঈদদের রক্তে অর্জিত আমরা একটি নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা সর্বকালে সেরা দুর্নীতিবাজদের একজন। তার আর্থিক সহায়তায় বান্দরবানে সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ কে অস্ত্র কিনে, সেই অস্ত্র দিয়ে আমাদের দেশ প্রেমিক সেনা সদস্যদের হত্যা করেছে। সে এখনো চেয়ারে কি ভাবে বসে থাকে? তাকে পাহারা দিতে হবে সে যেনো পালিয়ে যেতে না পারে। তার জেলা পরিষদ থেকে অব্যাহত দিয়ে বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
এই সময় তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, দুর্নীতিবাজ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লক্ষীপদ দাশ শুন্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তাকেও দুর্নীতি মামলার আওতায় আনা দরকার। লক্ষী, অমল, বিমল, শীমলরা বান্দরবানে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। বান্দরবানের মানুষের সুপেয় পানির টাকা দিয়ে ৫-১০ তলা ভবন করেছে মোজাম্মেল হক বাহাদুরেরা। তারা আলেম ওলমাদেরকে মিথ্যা জঙ্গি তকমা লাগিয়ে একের পর এক মামলা করে হয়রানী-অপমান করেছে। তারা জনগনের লুট করে কোটি কোটি টাকা ভারতে পাচার করেছে।

এই সময় তিনি নতুন সরকারে কাছে দাবী জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে খৃষ্টানাইজড বন্ধ করে ইস্কনের নিরাপদ ঘাটি বন্ধ করার কথা বলেন কাজী মুজিব। রাজার সনদ বাতিল করতে না হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের পর হতে অদ্যাবধি কোন নির্বাচন হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের পর হতে অদ্যবধি পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ বহাল তবিয়্যতেই আছেন। এতে করে সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায়, আঞ্চলিক পরিষদে অচিরেই নির্বাচন অথবা সিলেকশনের মাধ্যমে প্রগতিশীল বাঙ্গালী ও পাহাড়ি অন্তর্ভুক্ত করার বিনীত নিবেদন করছি।
তিনি আরো দাবী করে বলেন, উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বার বার উপজাতীয় সম্প্রদায় হতে সিলেক্টেড করার ফলে এর সুফল ভোগ করছে একটি মাত্র সম্প্রদায় ও অল্প কিছু উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ। আগামীতে উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান একজন সেনাবাহিনীর অফিসার নিয়োগ করা হলে অধিকার বঞ্চিত মানুষগুলো তাদের অধিকার ফিরে পাবে। বিগত সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদগুলো লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলো। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কোন জবাবদিহিতা না থাকার ফলে, যখন যেই সরকার ক্ষমতায় ছিলো তাদের দলীয় প্রতিনিধিগণ পকেট ভারী করেছে ও জনগণকে অধিকার হতে বঞ্চিত করেছে। এ অবস্থায় সম্পদের সুষম বন্টন, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ও জেলা পরিষদগুলোকে জনগনের প্রকৃত সেবাকেন্দ্র হিসেবে পুন:গঠনের লক্ষে যাচাই-বাছাই পূর্বক সৎ, ন্যায়পরায়ণ, যোগ্য ও আদর্শবান ব্যাক্তি নিয়োগ দানের জোর দাবি করছি। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ৫৪% বৃহৎ বাঙ্গালীদের প্রতিনিধি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ হতে যাচাই-বাছাই পূর্বক ২ জন করে ৩ জেলা পরিষদে ৬ জন সদস্য নিয়োগ দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে টাস্কফোর্স ঢেলে সাজাতে হবে। বিগত সরকারগুলো তাদের অনুগত প্রতিনিধি দিয়ে পরিচালনা করেছে। দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার এই পালাবদলের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সুদক্ষ, ন্যায়পরায়ন, যোগ্য, আদর্শবান ও অসাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স ঢেলে সাজাতে হবে।

আনন্দ মিছিল ও পথসভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ । সঞ্চালনা করেন যুগ্ন সম্পাদক শাহজালাল। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল মজিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক এম রুহুল আমিন, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি নুর আলম, আব্দুর শুক্কুর , লামা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান, বান্দরবান পৌর কমিটির সম্পাদক এরশাদ চৌধুরী, ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলা সাধারণ সম্পাদক হাবিব আল মাহমুদ প্রমূখ।