অপহরণের ৪৮ ঘণ্টা পর ৮ লাখ টাকায় মুক্তি পেলেন নাইক্ষ্যংছড়ির কৃষক

নিউজ ডেস্ক:

নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহরণের শিকার এক কৃষক ৪৮ ঘণ্টা পর ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাহাড়ি-বাঙালি মিশ্রিত ১১ সদস্যের একটি দল তাকে ছেড়ে দেয়। মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষকের নাম রিদুয়ানুল করিম মিন্টু (৩৮)। তিনি রামুর গর্জনিয়ার জাউচপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গত রোববার (২৯ মার্চ) রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লতাবনিয়া উঠুনি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে। তিনি বাইশারী মৌজার লংগদুরমূখের লম্বাচর এলাকায় তামাক ও সবজি চাষ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি অপহরণকারীদের কবলে পড়েন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে নিজ বাড়িতে ফিরে তিনি জানান, ৭ জন বাঙালি ও ৪ জন পাহাড়ি সদস্যের একটি সশস্ত্র দল তাকে অপহরণ করে। অপহরণের পর তাকে পাহাড়ি এলাকায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রথমে অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।

তিনি আরও জানান, অপহরণের পর মুঠোফোনে খবর পাঠানোর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে বোনের স্বামী ছুরুত আলম ঘরের মালামাল ও আত্মীয়-স্বজনের স্বর্ণ বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন এবং অপহরণকারীদের কাছে তা হস্তান্তর করেন। এরপরই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
অপহরণকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকার আরেক কৃষক কবির আহমদের ছেলে রিয়াজুল হক এবং তার কর্মচারী রবিউল (২২) অপহরণের শিকার হন। তাদের কাছ থেকেও ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এর আগে বৃদ্ধ আলী আকবরকেও একইভাবে অপহরণ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।