বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ ফিল সিমন্স

স্পোর্টস ডেস্ক:

ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগের পড়ন্ত সময়ে প্রায় এক যুগ খেলেছেন ফিল সিমন্স। দলের প্রয়োজনে টপ-অর্ডারে মারকুটে ব্যাট করতেন এবং মিডিয়াম পেস বোলিংয়ের মাধ্যমে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতেন। তিনি এমন একজন অলরাউন্ডার ছিলেন, যিনি পরিসংখ্যান দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এবার নতুন দায়িত্ব নিয়ে আসছেন এই ক্যারিবিয়ান।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের কিছুদিন আগেই বরখাস্ত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ফিল সিমন্সকে অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানান, “দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান সিরিজ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য আমরা ফিল সিমন্সকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি।”

ফিল সিমন্সের কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকের পর তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৯৮৭, ১৯৯২ এবং ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে খেলেছেন। বিশেষ করে ১৯৯২ সালের বেনসন অ্যান্ড হেজেস ওয়ার্ল্ড সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন সিমন্স, যা আজও ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিরল কীর্তি।

তার টেস্ট ক্যারিয়ার সীমিত হলেও ওয়ানডেতে তিনি অত্যন্ত সফল ছিলেন। সিমন্স ১৪৩ ওয়ানডে ম্যাচে ৩ হাজার ৬৭৫ রান সংগ্রহ করেছেন এবং বল হাতে শিকার করেছেন ৮৩ উইকেট। কোচ হিসেবে, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরোপা জেতে, যা প্রমাণ করে তার কোচিং দক্ষতা।

সিমন্সের এই নিয়োগ বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় সুযোগ। তার অভিজ্ঞতা ও কৌশল বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য মূল্যবান হতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত সিমন্স দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি দলের জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন তা দেখার অপেক্ষায় আছে পুরো ক্রিকেটবিশ্ব।

ফিল সিমন্সের এই যাত্রা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন এক অধ্যায়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।