আন্তর্জাতিক ডেস্ক;
জেন-জি আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি সরকারের পতনের ফলে এক বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে নেপাল। বর্তমানে দেশটিতে কোনো সরকার না থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রয়েছে শঙ্কাও। বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতিতে মারধর ও লুটের শিকার হয়েছে এক বাংলাদেশি পরিবার।
এদিকে, গতকাল বুধবার ১৬ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস। নেপালে থাকা বাংলাদেশিদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে গতকাল বিকেলে দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সকালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ জন এবং শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ছয়জনকে উদ্ধার করে দূতাবাস। তাদের সবাই মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী ছিলেন। তাদের উদ্ধার করে বিমানের নির্ধারিত হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি কেউ আক্রান্ত হয়েছে কিনা– উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার এক ট্যুরিস্ট বাস বিক্ষোভের সময় ভয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর উঠিয়ে দিয়েছিল। সে সময় তারা বাসটি পুড়িয়ে দিয়েছে। সেই বাসটিতে এক বাংলাদেশি মেয়ে ছিলেন। তাঁর ব্যাগসহ পাসপোর্ট-কাপড় সব পুড়ে গেছে।
আক্রান্ত পরিবারটির সম্পর্কে জানতে চাইলে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-মিশনপ্রধান শোয়েব আবদুল্লাহ বলেন, পরিবারটিতে বাবা, মা ও তাদের সন্তান ছিলেন। তারা হায়াত হোটেলে অবস্থান করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা হোটেলটিতে ঢুকে পড়লে পরিবারটি তাদের পাসপোর্ট নিয়ে লুকিয়ে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা তাদের রুমের দরজা ভেঙে জিনিসপত্র লুট করে। সে সময় তারা বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং অন্য একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে। বুধবার তাদের উদ্ধার করে দূতাবাসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার পর রাষ্ট্রদূতের বাসায় নিয়ে আসা হয়। তারা আতঙ্কগ্রস্ত, তাই তাদের হোটেলের পরিবর্তে রাষ্ট্রদূতের বাসায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৬ সদস্যের জাতীয় ফুটবল দল এবং মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের ৫১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিদেশে শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে। তাদের সব দৈনিক কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইট চালানোর অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ। এর বাইরে বর্তমানে আনুমানিক ৪০০ বাংলাদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওতে কর্মরত বসবাসকারী বাংলাদেশির সংখ্যা ৫০ জনের মতো।
জাতীয় ফুটবল দল ও ডিফেন্স কলেজের প্রতিনিধি সম্পর্কে উপ-মিশনপ্রধান বলেন, আমরা বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছি। ফুটবল দলকে এ বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা পাঠানো হবে। আশা করি, সকালে ফ্লাইটটি কাঠমান্ডু এসে পৌঁছবে।
গতকাল বিকেলে মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যতক্ষণ পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, আমরা কিছুই করতে পারব না। নেপালে থাকা বাংলাদেশিদের ভারতের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা আছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা সম্ভব নয়। কারণ তাদের কাছে ভারতীয় ভিসা নেই। তবে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন, কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সেখানে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশিরা সেখানে লক্ষ্যবস্তু হয়নি। নেপালের জনগণের আমাদের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। তারা হোটেলে তাদের রাজনৈতিক নেতাদের খুঁজতে গিয়েছিল। যখন তারা দেখেছে বাংলাদেশিরা হোটেলে আছে, তখনও তাদের কোনো ক্ষতি করেনি।