নিউজ ডেস্ক :
নিজ ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এ অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রিন্স ফয়সাল বলেন, গাজায় বসবাসকারী জনগণকে তাদের ন্যূনতম জীবনধারণের উপকরণ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশকে কোনোভাবেই গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। গাজার ভেতরে খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্য সরবরাহে কোনো বাধা যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় তিনি মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি আস্থার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একটি যৌথ বিবৃতিতে গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিমতীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরোধিতা করেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে এই তিনটি অঞ্চলকে একীভূত করার পক্ষে মত দেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫০ হাজার ৮০০ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা হাজারো নিখোঁজকেও মৃত ধরে নেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চলতি বছরের ১৯ মার্চ থেকে ইসরায়েল ফের আক্রমণ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবসহ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মানবিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবি নতুনভাবে জোরালো হয়ে উঠেছে।