জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক :
২৬ ডিসেম্বর, দুপুরে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং যুগ্ম সচিব কঙ্কণ চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এর আগে, ২৫ ডিসেম্বর রাতে সুপ্রদীপ চাকমা এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগে জড়িত অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ এবং পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসারের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় তিনি এ কথা জানান।
এ ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন দুর্বৃত্তরা জমি দখলের নামে এ হামলা চালিয়েছে। উপদেষ্টা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
২৫ ডিসেম্বর বিকেলে লামা থানায় গঙ্গাং মনি ত্রিপুরা ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযানে সরই ইউনিয়নের পূর্ব বেতছড়া পাড়া এবং টংগঝিরি পাড়ার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন স্টিফেন ত্রিপুরা (৫০), মইশৈ ম্যা ত্রিপুরা (৪৮), জোয়াতিং ত্রিপুরা (৫২) এবং মো. ইব্রাহিম (৬৫)। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উপদেষ্টা ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বান্দরবান জেলা ও লামা উপজেলা প্রশাসন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের তংগঝিরি এলাকায় দুর্বৃত্তরা চাঁদার দাবিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৭টি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। তখন এলাকার বাসিন্দারা ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অন্য স্থানে অবস্থান করছিলেন।
ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেও অতিরিক্ত সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।