সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তথাকথিত পশ্চিমা চাপিয়ে দেওয়া “আদিবাসী” শব্দ ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটির মুখপাত্র পাইশিখই মারমা এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি এবং জাতির সম্মিলিত চেতনার প্রতিফলন। এ প্রেক্ষাপটে সংবিধানের মূল চেতনাবিরোধী বা বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সকল সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোট অভিযোগ করে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে “আদিবাসী” শব্দ ব্যবহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর পরিচয় ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এই শব্দচয়ন বিভ্রান্তিকর এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব জনগণ বাংলাদেশি জাতিসত্তার অংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খিয়াংসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থাকলেও তা দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই বিবেচিত। এসব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা জাতীয় সংহতির জন্য হুমকি বলে তারা মনে করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক কিছু মহল “আদিবাসী” শব্দকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংগঠনটি এসব কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানায়।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের সংঘাত কাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংগঠনটির মতে, বিভাজনমূলক ভাষা ও পরিচয়ের রাজনীতি নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইতিহাস, বাস্তবতা ও সংবিধানসম্মত অবস্থান বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোট তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের পরিচয় বাংলাদেশি নাগরিকত্বের মধ্যেই নিরাপদ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও উন্নয়নের মাধ্যমেই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তারা মনে করে।
পরিশেষে সংগঠনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানায়—সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো সংবিধানবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।