নিজস্ব সংবাদদাতা::
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নৈসর্গিক বৈচিত্র্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য পরিচিত বান্দরবান জেলা পাহাড়ের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সদর দপ্তর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অধীন বান্দরবান রিজিয়ন পাহাড়ের জনগণ যাতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ২ ও ৩ এপ্রিল রুমা ও থানচি উপজেলায় দুটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় কেএনএফ-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের মামলায় আটক ১৯৯ জন বম সদস্যের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইতিমধ্যে ১০৪ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনে মুক্তি পাওয়া অধিকাংশ সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বান্দরবান রিজিয়নে দেখা করতে আসেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ২৮ জন জামিনপ্রাপ্ত সদস্য রিজিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রিজিয়ন কমান্ডার তাদের স্বাগত জানিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন এবং প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা দেন। তিনি বলেন, “ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবার জন্য কাজ করছে। পাহাড়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের অঙ্গীকার।”
এছাড়া, বাংলাদেশ ছাড়িয়ে মিজোরামসহ অন্যান্য স্থানে আত্মগোপনে থাকা অনেক বম সদস্যও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিজ নিজ পাড়ায় ফিরে এসেছেন। ইতিমধ্যে মিজোরাম থেকে ১৬২টি পরিবারের ৪১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিজ গ্রামে প্রত্যাবর্তন করেছেন। প্রত্যাবর্তনকারীদের প্রতিটি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ, চিনি) সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য সরঞ্জাম, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নধারাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।