নিউজ ডেস্ক :
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় দেশের জনগণ। শেখ হাসিনার পতনের পর তাই রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবি সামনে উঠে এসেছে প্রবলভাবে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল একাধিকবার স্পষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ চেয়েছে এবং সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দিয়েছে একাধিক আল্টিমেটামও।
ইতোমধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের ৯ মাস অতিক্রম করেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী বারবার চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন, তবুও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। শীর্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অনেকেই অভিযোগ করছে, ‘সংস্কার’ প্রক্রিয়াকে অজুহাত বানিয়ে নির্বাচনকে বিলম্বিত করা হচ্ছে।
নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে যেসব সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের আলোচনা চলছে, তার ভিত্তিতে তৈরি হবে একটি জাতীয় সনদ। তবে সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন, ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ, ভোটের ভিত্তিতে সংসদীয় আসনের বণ্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয়ে এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য রয়ে গেছে। ফলে এই জাতীয় সনদ কবে চূড়ান্ত হবে, সেটিও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “সংস্কার কোনো কৌশল নয় বরং এটি প্রধান উপদেষ্টার অগ্রাধিকার পাওয়া একটি কাজ। এজন্য তিনি দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করতে বলেছেন।” তিনি আরও জানান, “কমিশনের ভেতরে আলাপ-আলোচনা চললেও এক কমিশন আরেকটিকে প্রভাবিত করেনি। প্রত্যেকেই কাজ করেছে স্বাধীনভাবে।”
ড. মজুমদার মনে করেন, এখন বল রাজনৈতিক দলগুলোর কোর্টে। তাদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলেই জাতীয় সনদ প্রণয়ন সম্ভব হবে এবং সেক্ষেত্রে নির্বাচন আয়োজনও ত্বরান্বিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, “আশু সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত মতামত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টা এরইমধ্যে বলে দিয়েছেন, নির্বাচন হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে। এর বাইরে কোনো সময়সীমা আলোচনায় নেই।”
তিনি আরও জানান, প্রথম দফায় যেসব বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়নি, সেগুলো নিয়ে পুনরায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সবদিক বিবেচনায়, নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য, সুনির্দিষ্ট জাতীয় সনদ এবং সেই সনদ বাস্তবায়নের ওপর।