আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের গাজায় সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় ৮৮০টিরও বেশি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। এসব মসজিদের মধ্যে প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন অনেক স্থাপনা রয়েছে। দ্যা মুসলিম ফাইভ হানড্রেডের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, স্থানীয়দের গণনায় গাজার ৮৮০টি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে, যেগুলো ইসরাইলি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
প্রাচীন মমলুক স্থাপত্যের নিদর্শন আল-ওমরি মসজিদ এই ধ্বংসযজ্ঞের অন্যতম শিকার। এটি গাজার অন্যতম প্রাচীন মসজিদ হিসেবে পরিচিত ছিল, যা ইসরাইলি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, আল-ঘারবি মসজিদ, যা গাজা শহরে অবস্থিত, সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আল-কাতিবা মসজিদ, যা গাজার বৃহৎ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিও ধ্বংস হয়েছে এবং তার আশপাশের আবাসিক এলাকা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এই হামলার শিকার শুধু এগুলোই নয়। আল-সৌসি মসজিদ, আল-আমিন মুহাম্মদ মসজিদ এবং আল-নূর মসজিদসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ইসরাইলি হামলায় আল-ফারুক মসজিদ, আল-তাকওয়া মসজিদ, আল-আবরার মসজিদ এবং আল-কাসসাম মসজিদও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সকল মসজিদের মূল প্রার্থনা কক্ষ এবং মিনারও ধসে পড়েছে।
এই মসজিদগুলোর ধ্বংস ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরাইলি বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের ফলে গাজার সাধারণ মানুষ তাদের ধর্মীয় জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যুদ্ধের এ নির্মম পরিণতিতে মসজিদগুলো ধ্বংস হওয়ার কারণে গাজার মানুষজনের জন্য নামাজের স্থান পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় শুধু জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ৭৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরও হাজারেরও বেশি। এছাড়া ইসরাইলি বাহিনী দুই শতাধিক নারীসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিককে আটক করেছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।