নারী সহকর্মীর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফেসবুকে-টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্য হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিনিধি

নারী সহকর্মীর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফেসবুকে-টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্য হেফাজতে
ঢাকা: রাজধানীর রমনা থানায় কর্মরত এক নারী কনস্টেবলের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান লিটনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী নারী কনস্টেবল নীলা আক্তার গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) রমনা থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান লিটনকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারে নীলা আক্তার উল্লেখ করেন, ২০১৭ সাল থেকে মিজানুর রহমান লিটনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের আগের দিন তিনি জানতে পারেন যে, লিটনের আগের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। এ তথ্য গোপন রেখে লিটন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
জানার পর নীলা বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে লিটন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর কাছে থাকা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
২০২২ সালে নীলা আক্তার অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। প্রায় চার মাস আগে থেকে লিটন নিজের ফেক ফেসবুক আইডি, মেসেঞ্জার, ইমু এবং ‘Meghla akash’ নামের টিকটক আইডিসহ বিভিন্ন ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে নীলার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেন। তিনি এসব ছবি-ভিডিও নীলার স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছেও পাঠান।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে লিটন তাঁর ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে নীলার ব্যক্তিগত ছবি তাঁর ভাইয়ের আইডিতে পাঠান বলে জানতে পারেন নীলা। এতে তাঁর সাংসারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং স্বামী সম্পর্ক রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
পুলিশের অবস্থান
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মিজানুর রহমান লিটনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাহাৎ খান এ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “থানায় এমন কোনো মামলা হয়নি এবং কোনো পুলিশ সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়নি।”
ঘটনাটি তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদকের মন্তব্য:
এ ধরনের ঘটনা নারী পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। সাইবার অপরাধ ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
(তথ্যসূত্র: ভুক্তভোগীর এজাহার ও পুলিশ সূত্র)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *