চট্রগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন হত্যা: স্ত্রী ও ছেলের হাতে খুন, পারিবারিক কলহের জের
রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম: দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ‘অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের’ হামলা বলে যে গল্প ছড়ানো হয়েছিল, তদন্তে তার উল্টো চিত্র বেরিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্ত্রী ও ছেলের হাতেই খুন হয়েছেন আলমগীর।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী রহিমা বেগমের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। রহিমা বেগম ও তাদের ছেলে রবিউল হাসান রাকিব (১৮) মিলে ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার ক্রম ও পটভূমি
আলমগীর হোসেনের সঙ্গে প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ দীর্ঘদিনের। ২০০৭ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই সম্পর্কে চিড় ধরে। একপর্যায়ে রহিমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা বসবাস শুরু করেন। প্রায় ৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে এলেও বিরোধ মেটেনি।
ঘটনার পর হত্যা আড়াল করতে স্ত্রী ও ছেলে এলাকায় প্রচার চালান যে, আলমগীর রাতে ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। আলমগীরের মরদেহ তাঁর বাড়ির বাইরে পাওয়া যায়।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, শুরু থেকেই স্ত্রী ও ছেলের বক্তব্যে অসংলগ্নতা ছিল। পারিপার্শ্বিক তথ্য, ফরেনসিক আলামত ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মা-ছেলে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তারা।
পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ
এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। প্রবাসীদের পরিবারে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব অনেক সময় মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। পুলিশের দ্রুত তদন্ত প্রশংসার দাবি রাখে।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পারিবারিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
(তথ্যসূত্র: দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় সূত্র)