নিউজ ডেস্ক:
ইসলামি দলগুলোর মধ্যে জোট হওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী বলেছেন, জোট হতে পারে। আমরা মার্কেটে গবেষণা করে পাই, ৭-১০ শতাংশ ভোট তাদের আছে। তারা জোট করলে যে বড় কিছু হবে- আমার কাছে তেমনটা মনে হয় না।
রবিবার (২৯ জুন) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, বিভিন্ন দলে বিভিন্ন আইডিওলোজি আছে। কারো আইডিওলোজি শেখ মুজিব, কারো আইডিওলোজি জিয়াউর রহমান- এসব থাকতেই পারে। কিন্তু ইসলামি দলগুলোর সবার আইডিওলোজি কিন্তু এক কুরআন-হাদিসের আলোকে। আইডিওলোজি যেহেতু এক, তাহলে এত মতবিরোধ কেন? আপনারা তো ইউনাইটেড হতে পারছেন না।এটা বিরাট অন্তরায়। ইসলামি দলগুলো আমরা যেভাবে দেখে আসছি, তা ইসলামের কঠিন রূপটাই বেশি প্রকাশ পায়। এতে মানুষের অনীহা তৈরি হয়। তা না হলে, দেশে ৯০-৯২ শতাংশ মুসলমান, তাহলে আপনাদের সমর্থন এত কম কেন? এটা বললে তারা আমার উপর ক্ষেপতে পারে যে কে বলছে? কিন্তু ফ্যাক্ট এটাই পাই।
তিনি বলেন, জোট করার ব্যাপারে তারা তাদের দিকটা দেখছে- ব্যক্তিগতভাবে আমি এটার যৌক্তিকতা পাই। কেন পাই? তারা কখনো ক্ষমতায় যাবে না- এটা আমি নিশ্চিত করে বলে দিচ্ছি। কিন্তু সংসদে যখন আইন প্রণয়ন করবেন, তখন তো সব মতের লোক আপনার থাকা দরকার। এই আলোচনা হয়েছে- যদি ১০০ ভোট হয়, ধরি বিএনপির ৩৫-৪০টা আছে উদাহরণস্বরূপ। বাকি ৬০-৬৫ যে আছে, তা কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে।তাহলে ৩৫-৪০ শতাংশ ভোট নিয়ে আপনি ৬০-৬৫ শতাংশকে শাসন করবেন- এটা তো যৌক্তিক না। ৬৫ শতাংশ লোকের তো নানান মত আছে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে নিম্নকক্ষে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবি জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সময়কে পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল মনে করেন না তিনি। এ বিষয়ে আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, লন্ডনে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে মধ্য ফেব্রুয়ারি ধরা হয়েছে নির্বাচনের বর্ডার লাইন। কিন্তু এর আগে কিছু বিষয় দৃশ্যমান হতে হবে। জুলাই চার্টার, সংস্কার এবং বিচার- এগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে হবে। দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাইলে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে চাইলে নভেম্বরে তফসিল দিতে হবে। ফলে বড় জোর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অগ্রগতি দৃশ্যমান হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পাওয়া অ্যান্ড ব্যালান্সের একটি কথা বলা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। আপনি যদি কেবল সংসদ সদস্যের ভোটে প্রেসিডেন্ট বানান, তাহলে সংসদে যারা মেজরিটি থাকবে, তাহলে তো প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য থাকল না, তার দলেরই যদি প্রেসিডেন্টই আসে। সে কারণে ওরা চাচ্ছে মিনিমাম ওই ৭০ হাজার ইলেক্টোরাল ভোট।