নিউজ ডেস্ক:
রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার পিএসটিএস (পুলিশ সুপার ট্রেনিং স্কুল)-এর পুলিশ সুপার ও পুলিশ সদরদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এআইজি) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব নাসিমুল গণি স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলার (মামলা নং-১৫) প্রেক্ষিতে গত ১৩ নভেম্বর রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া থেকে মহিউদ্দিন ফারুকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারার আওতায় তাকে গ্রেপ্তারের দিন থেকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনের অভিযোগ
পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুকীর বিরুদ্ধে পারিবারিক জীবনেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
২০২২ সালের মার্চে তার সাবেক স্ত্রী আয়শা ইসলাম ওরফে মৌ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে মহিউদ্দিন ফারুকীর সঙ্গে আয়শার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে মহিউদ্দিন তাকে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখান। সম্পর্কের জেরে আয়শা অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মহিউদ্দিন ফারুকীর চাপের মুখে আয়শা তার স্বামীকে তালাক দেন। একই বছরে তিনি আবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে, মহিউদ্দিন তার গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা মহিউদ্দিন ফারুকীর বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারসহ অন্যান্য অভিযোগ তুলে ধরেন।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলার তদন্তের পর তার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।