সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা পেল ২৫টি বম পরিবার

জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক:

বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী চারটি গ্রামে (বাকলাই, প্রাতা, থান্দই ও সিমত্লাংপি পাড়া) পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর আতঙ্কে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বম জনগোষ্ঠির ২৫টি পরিবার ফের বসবাস শুরু করেছে। আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এই পরিবারগুলোর মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

রুমা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত বাকলাই বম পাড়া প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সহায়তা কর্মসূচিতে প্রতিটি পরিবারকে ৫০ কেজি চাল, ৫ কেজি লবণ, ৫ কেজি তেল, ৫ কেজি আলু, ৫ কেজি ডাল ও ৫ কেজি পেঁয়াজসহ মোট ৭৫ কেজি খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়াও সেনা চিকিৎসক দল বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে।

এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট-এর অধীন বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোন ক্যাম্প। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সাবজোন ক্যাম্পের অধিনায়ক।

সেনা কর্মকর্তা জানান, “পাহাড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আত্মসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ সালে কেএনএফ-এর কার্যক্রম ও সমতলের জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের তথ্য জানার পর সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে প্রায় ১৩টি গ্রাম থেকে আতঙ্কিত হয়ে বম জনগোষ্ঠির প্রায় ৪৪৬টি পরিবার ভারতের মিজোরাম ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেয়। ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার সেনা সহায়তায় ফিরেছেন।

ফেরত আসা পরিবারগুলোর একজন পারকেল বম জানান, “ফেরার পর জুম চাষের সময় পায়নি, আবার দিনমজুরেরও সুযোগ নেই। ফলে জীবনযাপন হয়ে পড়েছে কষ্টকর।”

তিনি সেনাবাহিনীর এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “সেনাবাহিনী যে পাশে আছে, এই অনুভবটাই আমাদের সাহস জোগায়।”

এর আগে গত কয়েক মাসে একই ধরনের সহায়তা পেয়েছে আরও ৭৭টি পরিবার।

সেনাবাহিনীর এই মানবিক পদক্ষেপ শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, বরং পাহাড়ে স্থিতিশীলতা ও পুনর্বাসনের একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।