নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশসহ ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিলে বৈশ্বিক অঙ্গনে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কহার এক লাফে ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এমন সংকটপূর্ণ সময়ে করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসেছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে অংশ নেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৈঠক শুরুর আগে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, শনিবার দুপুরে বৈদেশিক বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে। সেখানকার সুপারিশকে কেন্দ্র করেই সন্ধ্যার আলোচনায় বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ৩৭ শতাংশ ছাড়াও ভারতের ওপর ২৬, পাকিস্তানের ২৯, চীনের ৩৪, কম্বোডিয়ার ৪৯, ভিয়েতনামের ৪৬, শ্রীলঙ্কার ৪৪, থাইল্যান্ডের ৩৬, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৫, জাপান ও মালয়েশিয়ার ২৪ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করে, যার সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাতের। ফলে নতুন শুল্কহার এ খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে চীন এবং ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে কানাডা। পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠলে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে আলোচনায় বসছে।