বনের কাঠ নিধন করছে আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান ওরফে সুজন; নিরব ভূমিকায় বনবিভাগ!

বিশেষ প্রতিবেদক, জাগ্রত পাহাড়;

বান্দরবানে রুমায় নির্বিচারে পাহাড়ি বনাঞ্চল নিধন করছে আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান ওরফে সুজন। এই কাঠ পোড়ানো হবে অবৈধ ইটভাটায়, এতে ধ্বংস হবে বন পরিবেশ, নেমে আসবে পরিবেশের বিপর্যয়। গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হবে শিশুরা। এইসব দেখেও নিরব ভূমিকা পালন করার অভিযোগ উঠেছে বন রক্ষকের প্রতিষ্ঠান বনবিভাগের বিরুদ্ধে। তারা যেনো দেখেও না দেখার ভান ধরেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান ওরফে সুজন তার অবৈধ ইটভাটা পাশে আনুমানিক ৫ হাজার মন বনের কাঠ মজুত করে রেখেছেন। জানা যায়, এই কাঠগুলো তার অবৈধ ইটভাটাতে পোড়ানো হবে। বনের কাঠ নিধনের ফলে ক্ষতি বেড়েছে, এছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঝিরিঝর্ণায় পানি শুকিয়ে যাবারও প্রমাণ মিলেছে।তবুও আনিসুর রহমান সুজনে অবৈধ ইটভাটা থেকে টাকা কামানোর নেশা যেন তাকে পিছু ছাড়ছে না বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি।

স্থানীয় নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, সুজনে বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে তার শ্রমিকরা নানান ভাব ভঙ্গিতে হুমকি দেয়। তিনি তো বড় লোক, টাকা আছে, লোকবল আছে তাকে আমরা ভয় পায়। এই কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি না।

নির্বিচারে বন নিধন ব্যাপারে জানতে চাইলে “পরিবেশও সামাজিক বনায়ন রক্ষার কমিটির” সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল মান্নান বলেন, পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্বে মধ্যে পরে। যে বা যারা বনের গাছ নির্বিচারে কাটছে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন এবং বনবিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ভাবে রেহাই পাচ্ছে বলে তারা এইসব অপরাধ বার বার করার সাহস পাচ্ছে। বন নিধনকারী যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

এই ব্যাপারে মো: আনিসুর রহমান সুজনে বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম্বার ইজ ফরওয়ার্ডিং বলে কেটে যায়।

এই ব্যাপারে বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও সংযোগে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও বান্দরবান বনবিভাগের আরেক বিভাগীয় কর্মকর্তা (পাল্পউড) মো: তহিদুর ইসলাম মুঠোফোনে একাধিক বার কল ঢুকলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব – (৩)