জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক::
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত আহসান হাবিবের (২৩) মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার ও গ্রামবাসী। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আহসান ছিলেন তার পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্নদ্রষ্টা।
চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং চকরিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আহসান পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কক্সবাজার শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মাসে নয় হাজার টাকা উপার্জন করতেন। এ অর্থ দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালানোর পাশাপাশি ছোট বোন মাছুমার পড়াশোনার খরচ জোগাতেন।
গত ১৮ জুলাই, রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন আহসান। সহকর্মীরা তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চট্টগ্রামে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার।
শোকাহত আহসানের মা হাসিনা বেগম বলেন, “ছেলেটা সংসারের একমাত্র ভরসা ছিল। তার স্বপ্ন ছিল সরকারি চাকরি করে আমাদের কষ্ট দূর করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ঘাতকের গুলিতে ধূলিসাৎ হয়ে গেল।”
আহসানের ছোট ভাই মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “ভাই আমাদের দেখাশোনার পাশাপাশি সবসময় খোঁজ রাখতেন আমি ঠিকমতো কলেজে যাচ্ছি কিনা। এখন আমাদের পথ চেয়ে বসে থাকার মতো কেউ নেই।”
ছোট বোন মাছুমা জান্নাত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভাইয়ের টাকায় আমার পড়াশোনা চলত। এখন জানি না লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারব কিনা।”
আহসানের বাবা হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আমাদের পরিবারের আশার আলো ছিল। সে খুবই সাহসী ছিল। দেশের প্রতি তার টান ছিল। কিন্তু একটি গুলি আমার ছেলের জীবন কেড়ে নিল।”
স্থানীয়রা জানান, আহসান শুধু পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও গর্বের প্রতীক ছিলেন। তার এই নির্মম মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা এলাকাকে শোকস্তব্ধ করেছে।
দেশের প্রতি ভালোবাসা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রাণ উৎসর্গ করা আহসান হাবিবের মৃত্যু পরিবারসহ পুরো সমাজে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। তার স্বপ্ন ও সাহস সমাজের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সুত্র:দৈনিক ইত্তেফাক