বকেয়া সাড়ে ৪ হাজার কোটি, বন্ধের পথে বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র
অন্তর্বর্তী সরকারের বিবেচনাহীন উদ্দেশ্যমূলক সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশ। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত এসএস পাওয়ার-১ আই লিমিটেডের পাওনা আটকে রাখায় প্রতিষ্ঠানটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না। প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কয়লাবাহী বেশ কয়েকটি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করলেও এসএস পাওয়ার অর্থের অভাবে তা খালাসের জন্য এলসি খুলতে পারছে না। এতে দেশ বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য দফায় দফায় চিঠি দিয়েও এসএস পাওয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পায়নি। এসএস পাওয়ার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে দেশে বিদ্যুৎসংকট মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে, ব্যাহত হতে পারে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কার্যক্রম।বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, এসএস পাওয়ার বকেয়া চেয়ে এ পর্যন্ত সাত-আট দফায় চিঠি দিয়েছে। চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে এসএস পাওয়ার জানিয়েছে, সরকারের কাছে প্রতিষ্ঠানটির মোট পাওনা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ পরিশোধ না করায় কোম্পানির পক্ষে জ্বালানি কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিপিডিবিকে দেওয়া চিঠিতে এসএস পাওয়ার উল্লেখ করেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কয়লাবাহী একটি জাহাজ কুতুবদিয়ার বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। দিনের পর দিন অবস্থান করায় আমদানিকারককে জরিমানও গুনতে হবে। বহির্নোঙরে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি অবস্থান নেবে ৬০ হাজার টন কয়লাবাহী আরেকটি জাহাজ। শুধু তাই নয়, ১ মার্চ, ৯ মার্চ এবং ১৫ মার্চ আরও তিনটি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান নেবে। এসএস পাওয়ার জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে বকেয়া পরিশোধ না করায় তাদের পক্ষে এলসি খুলে কয়লা খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ারকে জানিয়েছে, এলসির পূর্ণাঙ্গ টাকা পরিশোধ না করলে কয়লা খালাস করা হবে না এবং ভবিষ্যতে কয়লা দেওয়া হবে না। এসএস পাওয়ার দাবি করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমপক্ষে ১৫০ মিলিয়ন ডলার (১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা) পরিশোধ করতে হবে এবং ১৫ মার্চের মধ্যে বাকি সমুদয় অর্থ পরিশোধ করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এসএস পাওয়ারের আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এর শর্তাবলি প্রতিপালন না করা আইনের লঙ্ঘন।
অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে এসএস পাওয়ার-১ আই লিমিটেডের অর্থ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এলসির টাকা পরিশোধে ব্যর্থতা এবং বহির্নোঙরে দিনের পর দিন জাহাজ অবস্থান করার জরিমানাসহ ক্ষতির মূল্যও টাকার অঙ্কে অনেক। খামখেয়ালি করে চুক্তির অর্থ পরিশোধ না করার মূল্য শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারকেই বহন করতে হয়। সে বিবেচনায় বর্তমান সরকারকেই আর্থিক ক্ষতির মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানি। বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এসএস পাওয়ারকে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার আরও ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। আমরা ধাপে ধাপে সমন্বয় করে কার্যক্রম চালিয়ে যাব, যেন কাজ বন্ধ না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার কোম্পানির হায়ার অথরিটির একজনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি সেখানেও বলেছি টাকা দেওয়া হবে। সব টাকা একসঙ্গে দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা ওনাদের বিষয় দেখছি, ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ হবে। আশা করি, কোনো সমস্যা হবে না।’