যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, অস্ত্রে লেখা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করো, ইসরায়েল ধ্বংস হোক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে একটি ক্যাথলিক স্কুলে বন্দুক হামলায় দুই শিশু নিহত হয়েছে। বন্দুকধারীর অস্ত্রে লেখা ছিল ভয়ঙ্কর বার্তা “ট্রাম্পকে হত্যা করো”।

বুধবার (২৭ আগস্ট) মিনিয়াপোলিস শহরের অ্যানানসিয়েশন ক্যাথলিক স্কুলে চার্চ সার্ভিস চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের বরাতে জানা যায়, হামলাকারী রবিন ওয়েস্টম্যান (২৩) তিনটি অস্ত্র (রাইফেল, শটগান এবং পিস্তল) ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

ওয়েস্টম্যানকে স্কুলের পার্কিং লটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সে আত্মহত্যা করেছে।

ওয়েস্টম্যানের অস্ত্র ও ম্যাগাজিনে লেখা ছিল—

“ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করো”
“ইসরায়েল ধ্বংস হোক”
“বার্ন ইসরায়েল”
“নিউক ইন্ডিয়া”
“ফর দ্য চিলড্রেন”
“হোয়্যার ইজ ইয়োর গড?”
কিছু বার্তা সিরিলিক অক্ষরে লেখা ছিল। এমনকি অতীতের স্কুল শুটারদের নামও খোদাই করা ছিল। একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এটা আমার জন্য। দরকার হলে ব্যবহার করব।”

ঘটনার আগে ওয়েস্টম্যান তার “Robin W” নামের ইউটিউব চ্যানেলে দুটি ভিডিও আপলোড করে।

প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, বড় অস্ত্রভাণ্ডার, গুলি ও লোডেড ম্যাগাজিন। দ্বিতীয় ভিডিওতে দুইটি জার্নাল দেখানো হয়। একটি ১৫০ পৃষ্ঠার, সম্পূর্ণ সিরিলিকে লেখা। অন্যটি ৬০ পৃষ্ঠার এবং সর্বশেষ তারিখ ছিল ২১ আগস্ট ২০২৫।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ওয়েস্টম্যানের আগের নাম ছিল রবার্ট। ২০২০ সালে নাম পরিবর্তন করেন, কারণ তিনি নিজেকে নারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এই অসুস্থ খুনি তার অস্ত্রে লিখেছিল ‘ফর দ্য চিলড্রেন’, ‘হোয়্যার ইজ ইয়োর গড?’ এবং ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’। এই সহিংসতা অকল্পনীয়।”

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত শিশুদের স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়েস্টম্যান বৈধভাবে অস্ত্র কিনেছিল, তার কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না এবং একাই এই হামলা চালিয়েছে।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর (জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত) ১৪৬তম স্কুল শুটিং সংঘটিত হলো।