নিউজ ডেস্ক:
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সামভালে মুঘল আমলের একটি জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদটি যেখানে অবস্থিত, সেখানে আগে একটি মন্দির ছিল বলে দাবি করে হিন্দুত্ববাদী একদল ব্যক্তি আদালতে পিটিশন জমা দেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মসজিদটিতে জরিপ চালানোর নির্দেশ দেয়।
রোববার সকালে একটি জরিপকারী দল মসজিদটিতে যায়। স্থানীয় মুসল্লিরা তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়, যাতে নিহত হন নাঈম, বিলাল ও নোমান নামের তিন মুসলিম। এছাড়া পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫০ জন। পুলিশের সুপারিনটেনডেন্টের গানারসহ ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে মোরাদাবাদ ডিভিশনাল কমিশনার জানিয়েছেন।
জরিপকার্য শুরু হওয়ার পর স্থানীয় মুসল্লিরা পুলিশ ও জরিপকারী দলের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। উত্তেজিত জনতা ১০টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয় এবং পরে গুলি চালায়। সংঘর্ষের পর নারীসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সমালোচকরা মনে করেন, এই ঘটনা ভারতের উপাসনা স্থান আইন, ১৯৯১ ভঙ্গ করেছে। আইনটি ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে। সমালোচকরা আরও বলেছেন, বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করছে।
সংঘর্ষ ও প্রাণহানির পরও মসজিদে জরিপ চালানো হয়। আদালতের নির্দেশ অনুসারে মসজিদের বিভিন্ন জায়গার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জরিপকারী দল। এ তথ্য আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।
এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।