প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোটাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পথ সুগম

নিউজ ডেস্ক :

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের কোটানির্ভর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে এবার মূলত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়ায় বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের রায় অনুসারে কোটার পরিমাণ সীমিত করে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এর ফলে আগের মতো নারী, পোষ্য ও পুরুষ কোটা থাকবে না। ২০১৯ সালের নিয়োগবিধিতে যেখানে ৬০ শতাংশ পদ নারী প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল, সেখানে এবারের খসড়ায় সেই কোটাব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। এতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের এক বৈষম্যের অবসান ঘটবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ ছিল, অনেক কম নম্বর পাওয়া প্রার্থী কোটার সুবিধায় নিয়োগ পেতেন, অথচ অপেক্ষাকৃত বেশি নম্বরপ্রাপ্তরাও বাদ পড়তেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান, নতুন নিয়োগবিধিতে কোটাব্যবস্থায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকেই শতভাগ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হলে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সহকারী শিক্ষকের ৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য ছিল, তবে বিজ্ঞপ্তির সময় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে শিক্ষকসংখ্যা তিন লাখ ৬২ হাজার ৭০৯ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষক রয়েছেন দুই লাখ ৩৫ হাজার ৬৭০ জন এবং পুরুষ শিক্ষক এক লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।