জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক :
সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “জাতীয় সরকারের কোনো প্রস্তাব ছাত্রদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দেওয়া হয়নি, বরং এটি অন্য মাধ্যমে এসেছে।” কিন্তু এই বক্তব্যকে অসত্য দাবি করে একটি ছাত্রপক্ষ বিস্তারিত তথ্যসহ পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে অনুষ্ঠিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা স্পষ্টভাবে ‘অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দেয়। ব্রিফিংয়ের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তারা এই প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রস্তাব করলেও, তারেক রহমান এ বিষয়ে একমত হননি। তিনি বরং নাগরিক সমাজের সদস্যদের দিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে ৭ আগস্ট ভোরে বিএনপি মহাসচিবের গুলশান বাসভবনে পুনরায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, যেখানে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে প্রস্তাবিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিষয়ে আরেক দফা বৈঠক হয় তারেক রহমানের সঙ্গে।
‘ছাত্রশক্তি’ গঠনে শিবিরের ভূমিকা নিয়ে মিথ্যাচার
টকশোতে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সাদিক কায়েম দাবি করেন, “ছাত্রশক্তি গঠনে শিবির যুক্ত ছিল এবং তাদের ইনস্ট্রাকশনে কাজ হতো।” এই দাবিকে ‘পুরোপুরি মিথ্যাচার’ বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের ব্যাখ্যায় জানা যায়, ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকার আন্দোলন থেকে পদত্যাগ করা কয়েকজন সদস্য এবং জাহাঙ্গীরনগরের একটি স্টাডি সার্কেল একত্র হয়ে নতুন একটি ছাত্রসংগঠন গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন।
তাদের ভাষায়, “ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন রাজনীতি করায় প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রায় সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল—তার মধ্যে শিবিরও ছিল। তবে এ যোগাযোগকে রাজনৈতিক শিকড় বলে চালানো অবান্তর।”
তারা আরও বলেন, সাদিক কায়েম কখনো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন না। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে শিবিরের অংশগ্রহণ থাকলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি শিবিরের একক ছিল না এবং কোনো ইনস্ট্রাকশনেও পরিচালিত হয়নি।
সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ ও ‘সায়ের গং’-এর ভূমিকাঃ
ছাত্রপক্ষটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট রাতে জুলকারনাইন সায়ের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ কথিত ‘সেইফ হাউজে’ ছাত্রনেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যেন তারা সামরিক বাহিনীর একটি অংশের পক্ষে সরকার পতনের ঘোষণা দেয়। এমনকি ফেসবুকে ‘একদফা’ ঘোষণার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়।
তারা জানান, তারা প্রথম থেকেই জনগণের মাধ্যমে গণ-আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে চেয়েছেন, কোনো সামরিক হস্তক্ষেপে নয়। কারণ, এতে আবারও ২০০৭ সালের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারত এবং আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ তৈরি হতো।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “৫ আগস্টের পর সায়ের গং বারবার বিকল্প নেতৃত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। সাদিক কায়েমসহ কিছু ব্যক্তি সেই প্রয়াসে ব্যবহৃত হন। তারা এখনও সক্রিয় রয়েছে।”
তারা অভিযোগ করেন, কল রেকর্ড ফাঁস, সার্ভেইল্যান্স, চরিত্রহনন, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালিয়ে এই গোষ্ঠী আন্দোলন বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা নজিরবিহীন। কিন্তু মিথ্যার উপর দীর্ঘদিন টিকে থাকা যায় না। সত্য একদিন সামনে আসবেই।”