পাহাড় বার্তা ডেস্ক:
বান্দরবান জেলার জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি খাবার “মুন্ডি” মারমা সম্প্রদায়ের খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত নুডলসের মতো দেখতে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষদের কাছে খুবই প্রিয়। পাহাড়ে ভ্রমণকারীরা এই খাবারের স্বাদ নিতে উৎসাহী থাকেন। মুন্ডি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে শীতকালে, তখন স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকরা গরম গরম মুন্ডি উপভোগ করেন।
মুন্ডি তৈরি করতে আতপ চাল প্রথমে দুই থেকে তিন দিন ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর ভেজানো চালের পানি ঝরিয়ে ঢেঁকিতে মণ্ড তৈরি করা হয়। এরপর মণ্ডকে একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে চাপ দিয়ে চিকন মুন্ডিতে রূপান্তরিত করা হয়। রান্নার প্রক্রিয়ায় প্রথমে মুন্ডি সেদ্ধ করা হয় এবং পরে বাটিতে ঢেলে তাতে লবণ, মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া দিয়ে গরম চিকেন স্টক ও তেঁতুলের টক যোগ করা হয়। ধনেপাতা দিয়ে মুন্ডি পরিবেশন করা হলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন কালাঘাটা, বালাঘাটা, মধ্যমপাড়া, ও উজানিপাড়ায় সন্ধ্যার পর মুন্ডি হাউসগুলোতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ভিড় দেখা যায়। মুন্ডির স্বাদ এবং রান্না পদ্ধতি নিয়ে একজন মুন্ডি হাউসের মালিক বলেন, শীতকালে মুন্ডির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, এবং দিন দিন পর্যটকদের জন্য প্যাকেটজাত মুন্ডির চাহিদাও বাড়ছে।
মুন্ডি তিন ধরনের সস বা টপিংস দিয়ে পরিবেশন করা হয় – ঝোল, চাটনি, ও ভাজি। তবে ঝোলটাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সেদ্ধ ডিম, আলু ও পেঁয়াজ বেরেস্তার সাথে পরিবেশন করা মুন্ডির স্বাদ অসাধারণ।
প্রতি বাটি মুন্ডির দাম সাধারণত ২০ টাকা। মুন্ডি হাউসগুলোয় মুন্ডির প্যাকেটজাত সংস্করণও পাওয়া যায়, যা ভ্রমণ শেষে পর্যটকরা সুভেনির হিসেবে নিয়ে যেতে পারেন।
