নিউজ ডেস্ক:
লামা উপজেলার ত্রিপুরাপাড়ায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের ম্যানেজার ও বান্দরবান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মং ওয়াই চিং মারমার নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, দখল-পাল্টাদখলের জেরেই এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে সরই ইউনিয়নের নতুন বেতছড়াপাড়ায় খাসজমি দখল করে বাগানবাড়ি স্থাপন করেন বেনজীর আহমেদ। ওই সময় মং ওয়াই চিং মারমা ও সরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস কম্পানির নেতৃত্বে পাহাড়ি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শত একরের বেশি জুমের জমি দখল করা হয়। এই বাগানবাড়ি পরিচর্যার জন্য মো. ইব্রাহিম নামের একজন কেয়ারটেকার নিয়োগ দেওয়া হয়, যার নেতৃত্বে একটি লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।
পাড়াপ্রধান পাইসা প্রু ত্রিপুরার অভিযোগ, জমি দখলের জন্য স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখানো হতো। বিভিন্ন সময়ে মামলার হুমকি এবং চাঁদা দাবির কারণে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যায়। সম্প্রতি ত্রিপুরাপাড়ায় পুনরায় বসবাস শুরু করলেও, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে তাদের ১৭টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়।
লামা থানার ওসি এনামূল হক জানান, এ ঘটনায় মো. ইব্রাহিমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আগুন দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছেন। এছাড়া পাড়াবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির কথাও স্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীরের লিজকৃত জমিতে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার অবসর গ্রহণের পর এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।
এ ঘটনায় লামা থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতারা।
সুত্র:কালের কন্ঠ
