বান্দরবান প্রতিনিধি:
২০২৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা—দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছর জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা গত বছরের ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশের তুলনায় প্রায় ২২ দশমিক ০২ শতাংশ কম।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪ হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৫৩৮ জন।
গত বছর (২০২৪) এইচএসসি পরীক্ষায় জেলায় পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৭৭ জন, এবং অকৃতকার্যের হার ছিল ৪০ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ, চলতি বছরে পাসের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা জেলার শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কলেজভিত্তিক ফলাফল
এবার কলেজ পর্যায়ে পরীক্ষার্থী ছিল ৩ হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৩৯৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৪৭৭ জন।
মাদ্রাসা (আলিম) শাখায় পরীক্ষার্থী ছিল ১২৩ জন, কৃতকার্য ১০৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৯ জন।
টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল ৭৭ জন, কৃতকার্য ৩৫ জন এবং অকৃতকার্য ৪২ জন।
কোয়ান্টাম কসমো স্কুলে শতভাগ পাস
এবারও জেলার শ্রেষ্ঠ ফলাফল করেছে লামা কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে পরীক্ষার্থী ছিল ৬২ জন, কৃতকার্য হয়েছে শতভাগ, আর ৩১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী ২১০ জন, কৃতকার্য ২০৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।
বান্দরবান সরকারি কলেজে ফলাফলে চরম অবনতি
অন্যদিকে জেলার প্রধান সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বান্দরবান সরকারি কলেজে এবারের ফলাফল উদ্বেগজনক। এখানে পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ১৭৪ জন, কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ৩৪০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন, এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৮৩৪ জন। ফলে পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ২৯ দশমিক ৯৬ শতাংশে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়নের অভাবের কারণে দিন দিন ফলাফলে অবনতি হচ্ছে। যথাযথ মনিটরিং, শিক্ষক সংকট নিরসন ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
