জমির উদ্দিন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
অদ্য ১৮ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল ১০ ঘটিাকায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবের অটোডোরিয়ামে ৩য় তলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা কর্তৃক দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বান্দরবানে শাস্তিমূলক বদলি বন্ধ, প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বৈরাচারের দোসরদের অপসারণ, সরকারি উন্নয়নসংস্থাগুলোর লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশ, বান্দরবান জেলা পরিষদ দ্রুত পূর্নগঠন, দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি, ফ্যাসিবাদী শক্তির বিচারে উদাসীনতা বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বান্দরবান প্রেসক্লাবে সকাল ১০ ঘটিকায় উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বান্দরবান জেলা শাখার প্রতিনিধি ছাত্রনেতা আসিফ ইকবাল, মোহাম্মদ মুসা, জমির উদ্দিন, হাবিব আল মাহমুদ, মিছবাহ উদ্দীন, জুবায়ের হোসেন, আহমেদ আবিদসহ অন্যান্য প্রতিনিধিগণ।
বক্তারা তাদের যৌক্তিক দাবীসমূহ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান অন্যথায় ভবিষ্যৎ এ ছাত্র জনতার নেতৃত্বে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন।
উল্লেখ যোগ্য দাবিগুলো হল:
ক) জনগণ যথাযথ সরকারি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।
খ) জনসাধারণকে সঠিকভাবে পানি সরবরাহ না করায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষ চরমভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে, এতে জেলা পরিষদের অধীনস্থ এলাকায় শিশু স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মধ্যে পতিত হয়েছে, যার ফলে পানিবাহিত নানা রোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেন। দ্ররিদ্র জনগোষ্ঠী ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালের দারস্থ হলেও সঠিক তদারকী না থাকায় সরকারি হাসপাতাল হতে সাধারণ জনগণ নুন্যতম চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। এতে করে জনজীবন ও জন-স্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। অতিদ্রুত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগের মাধ্যমে জেলা পরিষদ পুণর্গঠন না হলে জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হইতে জনগণ বঞ্চিত হবে।
গ) প্রশাসনে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসকের নিয়োগকৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত দলীয় দোসররা বহাল তবিয়তে থাকায় তাহারা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় অতিদ্রুত তাহাদেরকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাহাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের মাধম্যে প্রশাসনের সকল স্তরকে স্বৈরাচারের দোসরমুক্ত করা হক। একই সাথে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গকে অত্র বান্দরবান জেলাসহ ০৩ পার্বত্য জেলায় শাস্তিমূলক বদলী বন্ধ করা হক।
ঘ) আশংঙ্কা জনক বিষয় হলো, বিগত স্বৈরাচার শাসকের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার রক্তের দাগ না শুকালেও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলাকারী স্বৈরাচারের দোসর ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা সমূহে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আগাম জামিনসহ অন্যান্য জামিনের বিষয়ে কোন দরখাস্ত গ্রহণ না করলেও বান্দরবানের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে উক্ত মামলা সমূহের গ্রেফতারকৃত একাধিক আসামীকে জামিন দিয়েছেন এবং বর্ণিত মামলা সমূহের আসামীদের অতিদ্রুত জামিন প্রদান করবেন মর্মে আদালত চলাকালীন বক্তব্য প্রদান করেন। বিষয়টি ছাত্র-জনতার রক্তের উপর দাড়িয়ে স্বৈরাচারের পতাকা উত্তোলনের শামিল। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জামিন প্রাপ্ত আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে দেশে আবার যেকোন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাসহ বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পায়তারা
করিবে।
বর্তমানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে এবং যত্রতত্র যানজট সৃষ্টি হয়ে জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় অতি দ্রুত ট্রাফিক ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থা সচলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। ঙ)
চ) দুদকের কোন কার্যক্রম না থাকায় তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের আমলের বড় বড় দুর্নীতিবাজরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। অতি দ্রুত দুদকের কার্যক্রম গতিশীল করার মাধ্যমে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা করে দেশের অর্থনীতিকে সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক এবং দুদকের কার্যক্রম ব্যাপক হারে বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ছ) জেলা পরিষদের দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন ও প্রকাশের মাধ্যমে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জ) তৎকালীন স্বৈরশাসকের দোসররা এখনো ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রেনের করে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির মাধ্যমে জন-জীবন দূর্ভিসহ করে তুলেছে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ মনিটরিং সেল গঠনের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
চ) অত্র জেলায় পর্যটন খাতে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় জনগণের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং পর্যটন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। তাই অতিদ্রুত পর্যটন খাতকে সচল করে জনগণের আয়-রোজগারের পথ সুগমের ব্যবস্থা করা হোক।
