বান্দরবান প্রতিনিধি │
বান্দরবানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একের পর এক সেমিনার, কর্মশালা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে পর্যটকদের প্রত্যাশিত সুবিধা এখনো অনেক দূরের কথা। জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের নানা আয়োজনের পরও বান্দরবানের প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না।
সরকারি ছুটির দিনে নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার পর্যটক সমাগম হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার সড়কের বেহাল দশা এখন বড় উদ্বেগের কারণ। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত চালক যানবাহন চালান সেই পথে।
নীলাচলগামী চালক সোহেল মিয়া বলেন, “রাস্তা এমন খারাপ যে, একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাই, কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের তেমন উদ্যোগ নেই।”
অন্যদিকে, মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রেও একই চিত্র। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং অব্যবস্থাপনায় হতাশ হচ্ছেন পর্যটকরা। চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রুহুল আমিন বলেন, “বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দারুণ, কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর পর্যাপ্ত টয়লেট, বসার জায়গা বা গাইড সেবা নেই। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা আর পিচ্ছিল রাস্তা ভোগান্তি বাড়ায়।”
স্থানীয় একজন সাবরিনা হক জানান, “বান্দরবানে পর্যটন উন্নয়ন নিয়ে নানা কর্মসূচি দেখা যায়, কিন্তু মাঠপর্যায়ে তেমন পরিবর্তন দেখি না। শুধু সেমিনার বা আলোচনা নয়, বাস্তব উন্নয়ন দরকার।”
এই বাস্তব প্রেক্ষাপটে শনিবার (৪ অক্টোবর) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত এবং আইএলও বাংলাদেশের সহযোগিতায় “পর্যটন গন্তব্যস্থল সংক্রান্ত ফলাফল ও সুপারিশ বিষয়ে ভ্যালিডেশন কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয় জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের সদস্য ম্যা ম্যা নু এবং প্রধান অতিথি ছিলেন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। বক্তারা বলেন, বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকে টেকসইভাবে গড়ে তুলতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল বলছেন, শুধু আলোচনায় নয়, বাস্তবায়নে গতি আনতে হবে। বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের সমালোচনা করে বলেন, “বিগত সরকারের আমলেও নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানেও এর ব্যতিক্রম নয়।” তিনি প্রস্তাব করেন, “স্থানীয়দের মধ্য থেকে ১০ জনের একটি টিম গঠন করা হলে তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।”
বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন—এমন কর্মশালা ও আলোচনার পাশাপাশি যদি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ, উন্নত অবকাঠামো ও পর্যটকবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করা হয়, তাহলে বান্দরবান হতে পারে দেশের অন্যতম আদর্শ ও টেকসই পর্যটন গন্তব্য।


