জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক:
বান্দরবান: প্রকৃতির লীলাভূমি বান্দরবান, যেখানে পাহাড়ের বৈচিত্র্য আর নানান সংস্কৃতির মেলবন্ধন চোখে পড়ে। এখানকার মানুষদের খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে ভিন্নতা, আর এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সবজি হলো বাঁশ কোরল। পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষদের কাছে এটি প্রতিদিনের ভাতের সঙ্গে অন্যতম প্রিয় খাবার।
বাঁশ কোরল মূলত বাঁশের কচি অংশ, যা পাহাড়ের গভীর জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা হয়। মে-জুন-জুলাই এই মাসগুলোতে বাঁশ কোরলের মৌসুম চলে, আর তখনই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের ক্রেতারা এটি কিনে নিয়ে যান। বান্দরবানের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে বাঁশ কোরল রান্না করে খায়। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষরা একে বিভিন্ন নামে ডাকে যেমন চাকমারা বলে ‘বাচ্চুরি,’ মারমারা বলে ‘মহ্ই,’ এবং ত্রিপুরারা বলে ‘মেওয়া।’
বাঁশ কোরলের স্বাদ বাঁশের প্রজাতি অনুযায়ী ভিন্ন হয়। এর মধ্যে মলি বাঁশের কোরল সবচেয়ে সুস্বাদু এবং এর বাজার মূল্যও বেশি থাকে। বর্ষা শুরু হলেই বাজারে প্রথমে মিটিংগ্যা বাঁশের কোরল আসে, যা দ্রুত বাজার দখল করে। তবে জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে মলি বাঁশের কোরল ভরা মৌসুমে পাওয়া যায়, এবং তখন পর্যটকরা এই বাঁশ কোরল কেনার জন্য ভিড় জমায়।
বাঁশ কোরল শুধু উপজাতীয় সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং এখন সারাদেশেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় বাঁশ কোরল বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে গত কয়েক বছরে পাহাড়ে বাঁশবনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাঁশ কোরলের উৎপাদনও কমে গেছে। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, বাঁশ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বর্ষাকালে বাঁশ আহরণ বন্ধ রাখতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুই থেকে তিন মাস বাঁশ কোরল উত্তোলন বন্ধ রাখলে বাঁশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং আগামীতে বাঁশ কোরলের সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
বাঁশ কোরল এখন শুধু খাদ্য নয়, বরং একটি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। বাজারে উপজাতি নারীরা ছোট ছোট থুরুংয়ে বাঁশ কোরল বিক্রি করে। ফলে অনেকেই এই মৌসুমে বাঁশ কোরল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।